“ছাত্র রাজনীতি” 
“মীর জাফর” একজন ব্যাক্তির নাম ছিলো, কিন্তু মীর জাফরের মৃত্যুর পর থেকে তার নাম একটি গালিতে পরিনত হয়েছে। কারণটা সকলে জানে, এটা মীর জাফরের কর্মের উপাধি। 

”ছাত্র রাজনীতি” উনিশ শতকের প্রথম থেকে শুরু হয়ে আসলেও বর্তমান বাংলাদেশের জন্য ”ছাত্র রাজনীতি” এক গালি। এটাও বর্তমান ছাত্র রাজনীতির কর্মের উপাধি। 

এখন আর কোন মা গর্ব করে বলে না আমার সন্তান ছাত্র রাজনীতি করে। কোন বাবা চায়ের আড্ডাতে বসে বলে না আমার সন্তান মাতৃভূমির কল্যাণে ছাত্র রাজনীতি করে। আর কোন ভাই বলে না তোদের দাবি আদায় না করে বাসায় ফিরবি না। কোন বোন আর রাত জাগে না, ভাইয়ের জয় এর হুংকার শুনে ঘুমাবে বলে। 

”ছাত্র রাজনীতি” উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ছাত্র রাজনীতি বাংলার রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করে। বিশ শতকের প্রথম দিকে সন্ত্রাসবাদী, স্বদেশী ও অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র রাজনীতি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেন। বর্তমান বাংলার ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের অনেক অবদান রেখেছে ”ছাত্র রাজনীতি” । ছাত্ররাজনীতির অনেক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা আমরা জানি। ছাত্র রাজনীতি বলতে একজন ছাত্রের তপস্যা ও ধ্যান। এটার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যকলাপ ও নেতৃত্ব বিকাশের সৃষ্টি করে থাকে। 
রাজনীতি” কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, কোন ছাত্রের ইচ্ছা বা অভিমত নয়। রাজনীতি হলো পেশা, যার সঠিক সিদ্ধান্ধের কারণে একটি জনগোষ্ঠীর সূফল বয়ে আনতে পারে আবার তারই একটি ভূলের কারণে পরিপূর্ণ একটি জাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। সেটার কারণে রাজনীতি করতে হলে পরিপূর্ণ জ্ঞানার্জন করতে হবে। জ্ঞানার্জনের মাধ্যম দিয়ে একজন সঠিক রাজনীতিবিদ গড়ে ওঠা সম্ভব। 

শিক্ষার্থীরা রাজনীতি করবে, নাকি রাজনৈতীতিসচেতন নাগরিক হবে। 
শিক্ষার্থীরা রাজনীতি করবে, নাকি রাজনৈতীতিসচেতন নাগরিক হবে, এ কথার পরিপেক্ষিতে যেটা বলতে হবে সেটা আগেই বলেছি, যে রাজনীতি করতে হলে আগে জ্ঞানার্জন করতে হবে। কারন রাজনীতি বলতে একটি জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য সিদ্ধান নেওয়া। শিক্ষার্থীরা অবশ্যই রাজনীতি করবে তবে শিক্ষার্জনের পর। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকবে তার লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করা দোষের কিছু নয়। তবে শিক্ষার্থীর অধ্যয়নরত অবস্থা রাজনীতির ময়দানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চিন্তা করা বোধগম্য নয়। তাদেরকে রাজনৈতীতিসচেতন মানুষ হতে হবে, রাজনৈতিক ত্রুটি ছাড়াও সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে, তাহলেই তাদের মধ্যে ভবিষ্যতের জন্য ধ্যান তৈরি হবে, জ্ঞান পরিধি বিকশিত হতে ধাকবে, ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দিতে পারবে। 

যদি কোন শিক্ষার্থী পরিপূর্ণ রাজনৈতিক জ্ঞানার্জন ব্যাতিত তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাজনৈতিক  সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে তাহলে তাকে শিক্ষার্থী নাম অবসান হবার আগেই ঝরে যেতে হতে পারে। শিক্ষার্থীরা রাজনীতি করবে না, রাজনীতি শিক্ষা গ্রহণ করবে, অধ্যয়নের পাশাপাশি অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদ ও আন্দলোন করবে, রুখে দারাবে, তাহলেই কাঙ্খিত শান্তি খুজে পাবে প্রত্যেকটি শিক্ষাঙ্গন, প্রত্যেকটি ‘মা’ প্রত্যেকটি মাতৃভুমি। 
--------- আদনান সুমন.. … … … …

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog